রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে। নিহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুও রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন রাজবাড়ী সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. রাসেল মোল্লা।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। বাসটিতে ৩৯ জন যাত্রী ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। শনাক্তের পর জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ পানির ওপর তুলে আনে। এরপর উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। সকালে পুনরায় উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
দুর্ঘটনার সময় বাসটি ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি নদীতে পড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলসহ বিভিন্ন সংস্থা উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও নৌপুলিশ কাজ করছে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি কমিটি রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এবং অন্যটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে কাজ করবে। উভয় কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের দাফনের জন্য প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে পরবর্তী সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
Leave a Reply