ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রায় চার বছর আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট একাদশে বিশেষজ্ঞ পেসার ছিলেন না একজনও। রাখা হয়েছিল কাজ চালানোর মতো ‘পার্ট টাইমার’ সৌম্য সরকারকে। তিনি প্রথম ইনিংসেই কেবল বোলিং করেছিলেন মাত্র ৪ ওভার!
বাকি ১১৩ ওভার করেছিলেন সাতজন স্পিনার মিলে! ৯০.১ ওভার স্থায়ী আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে ছয় স্পিনার হাত ঘুরিয়েছিলেন। পুরো স্পিনসজ্জা নিয়ে সদলবলে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাওয়া সেই দলই এত বছর পর বদলে ফেলতে চলেছে খোলনলচে।
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে স্পিনসর্বস্ব দলের এবার একই প্রতিপক্ষের সঙ্গে হাওয়া বদলের আগাম ছবিও ফুটে উঠেছে। সেটি মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের বাইশ গজেই। তাজা ঘাসের সবুজ ঝিলিক দেখা গেছে গতকাল বিকেলেও। আগামীকাল সকালে টেস্ট শুরু হতে হতে এর অনেকটা ছেঁটে ফেলাও হবে নিশ্চিত।
তবু উইকেটে সবুজ ঘাসের আস্তরণ থাকবেই থাকবে। যেখানে স্বাগতিকদের পাঁচ বোলারের একাদশে পেসারই থাকবেন তিনজন!
একটু অন্যভাবে নিজেদের পরখ করে দেখতে চাওয়ার ভাবনা থেকেই যে কৌশলে পরিবর্তন আনা হয়েছে, বিষয়টিকে সেভাবে দেখারও উপায় নেই। এটিকে বরং বলা যেতে পারে নিজেদের পাতা ফাঁদে নিজেরাই আটকে যাওয়ার শিক্ষা। স্পিন উইকেট বানিয়ে উল্টো আফগানদেরই শক্তির যথেচ্ছ ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল।
তাতে হারের বেদনায় নীল হওয়া বাংলাদেশ এবার একই ভুল করতে চায় না বলে ভেন্যু যেমন পাল্টেছে, তেমনি মিরপুরের উইকেটও পাল্টে ফেলেছে চেনা চরিত্র। আগেরবারের দেখায় দুই দলের দুই মূল চরিত্রও ঘটনাচক্রে এই ম্যাচে নেই। ১১ উইকেট নিয়ে আফগানদের জয়ের নায়ক রশিদ খানকে চোটের শঙ্কায় এই টেস্টে রাখা হয়েছে বিশ্রামে। আর ২০১৯-র সেই টেস্টে কোনো পেসার ছাড়াই পুরোপুরি ঘূর্ণি উইকেটে খেলার সিদ্ধান্ত একরকম একাই নিয়েছিলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। আফগানদের আরেকবার সামনে পাওয়ার সময়ে ডান হাতের তর্জনীর চোটে তিনিও মাঠের বাইরে।
তাঁর জায়গায় এই প্রথম সবুজ ব্লেজার গায়ে টেস্টে টস করতে নামছেন লিটন কুমার দাস। সবুজ উইকেটে বাংলাদেশের ব্যাটাররা কেমন করবেন, সে বিষয়ে খুব নিশ্চিত নন আপৎকালীন এই টেস্ট অধিনায়কও। কারণ মিরপুরে সবুজ উইকেটে খেলে অভ্যস্ত নন স্বাগতিক দলের ব্যাটাররাও। বিশেষ করে এই মাঠের উইকেটের দুর্নামও কম ছিল না। সবুজ উইকেট এবার এই ভেন্যুকে নতুন করে বদনামের ভাগীদার করবে না নিশ্চিত। আবার এটিও নিশ্চিত যে বড় কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে এ রকম উইকেটে খেলার ঝুঁকি নিত না স্বাগতিক দলের টিম ম্যানেজমেন্টও। সেই সঙ্গে এই আফগানিস্তান দলের পেসাররাও টেস্ট ক্রিকেটে খুব পরীক্ষিত কেউ নন। দুয়ে মিলেই বাংলাদেশের কাছে এমন উইকেটে খেলার জন্য আফগানিস্তানকেই মনে হয়েছে আদর্শ প্রতিপক্ষ। কিন্তু মাথায় রাখতে হচ্ছে নিজেদের ব্যাটারদের অনভ্যস্ততাও।
সে কারণেই নিজ দলের ব্যাটাররা কেমন করেন, সেটি দেখার অপেক্ষা আছে লিটনেরও, ‘অনেক দিন থেকেই মিরপুরে বেশির ভাগ খেলা হয় ঘূর্ণি উইকেটে। তো আমাদের এখন চ্যালেঞ্জ এটিই যে আমরা ঘাসের উইকেটে কিভাবে ভালো খেলি। দেখার বিষয়, আমরা এখানে কিভাবে টিকে থাকতে পারি এবং বড় ইনিংস খেলতে পারি।’ বৃষ্টিতে কাল দুপুরে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন ভেস্তে গেলেও সংবাদ সম্মেলনের জন্য মিরপুরে আসতে হয় লিটনকে। তখনই এই টেস্টে বাংলাদেশের একাদশের রূপরেখাও অনেকটাই জানিয়ে দেন তিনি, ‘আপনি যখন ইভেন (ভারসাম্যপূর্ণ) উইকেটে খেলবেন, আপনার হাতে পাঁচ বোলার না থাকলে কিন্তু খুব কঠিন। ইভেন উইকেটে খেলা হলে আমি সব সময়ই পাঁচ বোলার নেওয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিই।’ খেলা যখন সবুজ উইকেটে, তখন তিনজন তো বিশেষজ্ঞ পেসার হবেনই। অথচ প্রায় চার বছর আগের ‘ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর’-এ তেমন ছিলেন না একজনও। ঠেকে শেখা বাংলাদেশ এবার তাই যাচ্ছে অন্য ফর্মুলায়!
Leave a Reply