কক্সবাজারে স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ বিচ্ছিন্ন করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে সাইফুল ইসলাম তারেককে (৩০) গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে কক্সবাজারে আনা হয় এবং আদালতে সোপর্দ করা হয়।তারেক মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটা ইউনিয়নের দাসি মাঝিপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ জানায়, পরবর্তীতে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেন এবং দেহাংশ কোথায় ফেলা হয়েছে তা উল্লেখ করেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) তাকে রিমান্ডে এনে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও অভিযান পরিচালনা করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেও তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং পুলিশকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে দেহাংশ উদ্ধারে সহায়তা করেন।
এর আগে গত ১১ এপ্রিল বিকালে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের জানারঘোনা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ডোবাসদৃশ স্থান থেকে মস্তক ও দুই হাতের কব্জিবিহীন এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে পরিচয় শনাক্তে নিশ্চিত হওয়া যায় নিহত নারী শাহিদা আক্তার রিপা ওরফে মুন্নি (২৯)। তিনি মহেশখালী উপজেলার চরপাড়া এলাকার আমান উল্লাহর মেয়ে। নিহতের মা হাছিনা আক্তার বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর প্রযুক্তি ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঢাকায় অবস্থান শনাক্ত করে আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ মার্চ স্ত্রীকে দেওয়ার জন্য আনা রসমালাইয়ে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাকে অচেতন করেন তারেক। এরপর ছুরি দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করে মাথা দুই হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করা হয়। একদিন পর বিচ্ছিন্ন দেহাংশ ঝিলংজার জানারঘোনার একটি পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলা হয়।
আর বিচ্ছিন্ন মাথা ও হাতের অংশ কক্সবাজার সদর থানার পাশে খুরুশকুল–কস্তুরাঘাট নতুন ব্রিজের ওপর দিয়ে বাঁকখালী নদীতে নিক্ষেপ করা হয় বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
পুলিশ আরও জানায়, আসামির স্বীকারোক্তি ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি এবং ঘুমের ওষুধ মেশানো রসমালাইয়ের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মাথা ও হাতের কিছু অংশ উদ্ধারে এখনো অভিযান চলমান রয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ছমিউদ্দিন বলেন, আসামির দেওয়া তথ্য ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। দেহাংশ উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণরহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply