প্রকাশ:১৮ জুন ২০২৬/বুধবার
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ঘরমুখী মানুষের ব্যাপক চাপের মধ্যে পদ্মা সেতুতে যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে কর্তৃপক্ষ। গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে মোট ৪১ হাজার ৮৮৫টি যানবাহন চলাচল করেছে, যার বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫ হাজার ২৫০ টাকা।
বৃহস্পতিবার সকালে সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত এই বিপুল সংখ্যক যানবাহন পারাপার হয়। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সেতুর দুই প্রান্তেই বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাওয়া প্রান্ত দিয়ে সবচেয়ে বেশি ২৮ হাজার ৩৯০টি যানবাহন পার হয়েছে, যেখানে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৬৬ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫০ টাকা। অন্যদিকে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১৩ হাজার ৪৯৫টি যানবাহন চলাচল করেছে এবং সেখান থেকে আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা।
যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা লেন এবং টোল প্লাজায় অতিরিক্ত বুথ চালু থাকায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। দ্রুত টোল আদায়ের জন্য ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল উভয় পদ্ধতিই চালু রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাওয়া ও জাজিরা—দুই প্রান্তেই যাত্রীদের ভিড় থাকলেও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার কারণে তেমন কোনো ভোগান্তি নেই।
পদ্মা সেতুর সাইড অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ জানান, সকাল থেকে যানজট ছাড়াই সব ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় টোল প্লাজা এলাকায় বিশেষ পর্যবেক্ষণ টিম মোতায়েন রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
সেতুটি চালুর পর থেকে এটি অন্যতম সর্বোচ্চ টোল আদায়ের ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ঈদের আগের দিনগুলোতে যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে পারে। তবে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকায় বড় ধরনের ভোগান্তির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে ফেরিঘাটের চাপ অনেকটাই কমিয়ে পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে উঠেছে, যা দেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Leave a Reply