শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে নাশকতার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, আমাদের এই বন্ধন কেউ কখনো ভাঙতে পারবে না। অনেক চেষ্টা হয়েছে এবং চেষ্টা চলছে। এদেশে যার পরাজিত শক্তি তাদের অনেক অর্থ সম্পদ এদেশে আছে, অনেক সম্পদ তারা পাচার করে নিয়ে গেছে। সেই টাকাগুলো খরচ করছে বাংলাদেশে নানা নাশকতামূলক কাজে, নানাভাবে তারা অন্তর্ঘাত তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু এই দেশের মানুষের যে প্রাণের শক্তি এই শক্তি অফুরন্ত। এই শক্তির কাছে সকল নাশকতাকারীর চক্রান্ত ভেসে যাচ্ছে, ভেসে গেছে কেউ কিছু করতে পারবে না।
তিনি বলেন, এই দেশ হাজার বছর ধরে সম্প্রতির যে বন্ধন তৈরি করে রেখেছিল এই বন্ধনের উপর হাতুড়ির আঘাত এসেছে বার বার। এই হাতুড়ির আঘাত সত্ত্বেও এই বন্ধনকে কেউ ভাঙতে পারেনি। সেই অটুট বন্ধন নিয়ে আজও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আজও বাংলাভাষীর মানুষ এগিয়ে যাচ্ছে। চক্রান্ত হচ্ছে, ষড়যন্ত্র আছে কিন্তু সকল চক্রান্ত ষড়যন্ত্রের যে বেড়াজাল তা বার বার ছিঁড়ে ফেলেছে এই দেশের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ।
তিনি বলেন, এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে আমরা নানা কথা, নানা অপপ্রচার, অপতথ্য সমাজে দেখেছি দেশের ভেতর থেকে দেশের বাইরে থেকে। কিন্তু তবুও এদেশের মানুষের সকল সম্প্রদায়ের প্রতি যে শুভেচ্ছা বোধ ও ভ্রাতৃত্ববোধ সেটা মানুষ প্রতিষ্ঠা করেছে। সকল অপপ্রচার সত্ত্বেও আজকে আনন্দময় আগমনী বার্তায় সারা বাংলাদেশ প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে, সারা দেশের মানুষ উৎসবে মেতে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, আজকে আমার বিস্ময়কর মনে হয়, কেন আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে এই ধরণের একজন পরাজিত মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। যে শিশুর রক্তপাত করতে দ্বিধা করে নি, যে কিশুরের রক্তপাত করতে দ্বিধা করে নি, যে তরুণের বুকে গুলি চালাতে দ্বিধা করে নি আজকে কেন তাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। কেন তাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য নানা বয়ান তৈরি করা হচ্ছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আজকে এই প্রশ্ন সবার কাছে, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই একসাথে একাত্তর সালে লড়াই করেছি না? আমরা পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে প্রতিহত করেছি। অন্য কোন হানাদার বাহিনী যদি আসে তাহলে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, চাকমা মারমা সবাই একসাথে প্রতিহত করবে। এটা আমাদের অঙ্গীকার, বাংলাদেশের মানুষের অঙ্গীকার।
রিজভী বলেন, বাংলাদেশ তৈরি হয়েছে কে মুসলিম, কে হিন্দু এই পরিচয়ে নয় বাংলাদেশ তৈরি হয়েছে এই সীমানার মধ্যে যে জনগোষ্ঠী বাস করে তার ধর্মীয় পরিচয় যাই হোক সে মুসলিম হোক, হিন্দু হোক, বৌদ্ধ হোক, খ্রিষ্টান হোক সে তার দেশকে ভালোবাসে, দেশের মানুষকে ভালোবাসা, প্রতিটি জনগোষ্ঠীকে ভালোবাসে। এই ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কেউ যদি বাংলাদেশকে নয়া উপনিবেশ বানাতে চায় , দিল্লির যারা তাঁবেদারি করেছে এদেশের পরাজিত শক্তি তারা যদি নয়া উপনিবেশ বানাতে চান, এদেশের হিন্দু মুসলিম সবাই একসাথে সেটি প্রতিহত করবে। এটিকে কোন উপনিবেশ বানাতে দিবে না।
আজকে এই মহিমান্বিত দুর্গাপূজায় আমাদের প্রত্যেকেই অঙ্গীকার যে দেবী দুর্গা প্রতিবছর আসে বার্তা নিয়ে। এই বার্তাটি সকল অন্যায়কে, অসঙ্গতিকে, অন্যায়কে বিনাশ করে। মা দুর্গা সত্যের জন্য ন্যায়ের জন্য বার বার পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। তার এই আবির্ভাবের মধ্য দিয়ে এদেশের মানুষের মধ্যে অন্যায়কারী বিরুদ্ধে, পাপীর বিরুদ্ধে, অপরাধীর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধের বাসনা গড়ে উঠে।
Leave a Reply